বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলার ভালুকায় এক পোশাক কারখানায় কর্মরত হিন্দু ধর্মাবলম্বী শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে দলবদ্ধভাবে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ‘ধর্ম অবমাননার’ কোনো প্রত্যক্ষ বা বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) জানায়, নিহত ব্যক্তি যদি ফেসবুক বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো আপত্তিকর মন্তব্য করতেন, তবে তার কিছু ডিজিটাল প্রমাণ থাকার কথা। কিন্তু তদন্তে এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্র ও সহকর্মীদের বরাতে জানা গেছে, দীপু চন্দ্র দাস একটি পোশাক শিল্প কারখানায় কর্মরত ছিলেন। সম্প্রতি তার দক্ষতার ভিত্তিতে সুপারভাইজার পদে পদোন্নতি হয়। এই পদের জন্য আরও তিনজন প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন, যারা তার প্রমোশন ভালোভাবে গ্রহণ করেননি।
এছাড়া পাওনা অর্থের হিসাব নিয়েও ওই সহকর্মীদের সঙ্গে দীপু দাসের বিরোধ চলছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এরই মধ্যে পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে ইসলাম ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগ ছড়ানো হয় বলে দাবি স্থানীয়দের।
জানা গেছে, দীপু দাস স্মার্টফোন ব্যবহার করতেন না; তিনি একটি সাধারণ বাটন ফোন ব্যবহার করতেন। তবুও একটি ভুয়া ফেসবুক আইডি থেকে ছড়ানো পোস্টকে কেন্দ্র করে কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই তাকে সহিংসতার শিকার করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীপু দাসকে প্রথমে মারধর করে অর্ধমৃত করা হয়। পরে গলায় দড়ি বেঁধে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে তার শরীরে আগুন দেওয়া হয়। আশপাশে উপস্থিত শত শত মানুষ এই নৃশংসতা প্রত্যক্ষ করলেও কেউ তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি।
